Breaking News
Home / অন্যান্য সংবাদ / ভালোবাসা দিবসে আড়াল হলো ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়

ভালোবাসা দিবসে আড়াল হলো ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়

“মধুর কেন্টিনে যাই/
অরুনের চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে/
বসু, তোমাকে মনে পড়ে যায়।”

“মধুর কেন্টিনে যাই/
নিত্য নতুন প্রোগ্রাম, মিছিল সভা বটতলা/
অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে দুর্জয় শপথ/
সামরিক জান্তার ছোবল থেকে/
শিক্ষাজীবন, শিক্ষাঙ্গনের স্বায়ত্বশাসন রক্ষার অঙ্গীকারে/
ডাক দেই দেশবাসীকে”

Valentines News
ছবি: সংগৃহীত।

ভালোবাসা দিবসের একটি অর্থনৈতিক দিক আছে । একে কেন্দ্র করে নানা রকম বাণিজ্য গড়ে উঠেছে। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর একটি রাজনৈতিক দিকও রয়েছে।

১৯৮২ সাল। ক্ষমতায় হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। শিক্ষা বাণিজ্যিকীকরণ ও সংকোচণ করে প্রণয়ন করা হয় নতুন শিক্ষানীতি। তৎকালিন শিক্ষামন্ত্রী ড. মজিদ খানের প্রণিত এই শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন খর্ব ও শিক্ষার ব্যয়ভার ৫০%যারা বহন করতে পারবে তাদের পরীক্ষার ফলাফল ভালো না হলেও উচ্চশিক্ষার সুযোগ রাখা হয় এই শিক্ষানীতিতে। ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৮২, মজিদ শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দেয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।

জেনারেল এরশাদ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একুশে ফেব্রুয়ারির বিভিন্ন অনুষ্ঠান বাতিল। শিক্ষা সঙ্কোচন ও সাম্প্রদায়িকীকরণসহ জনস্বার্থ বিরোধী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮২ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্ররা মিছিল বের করলে সামরিক স্বৈরাচারের পুলিশ বাহিনী নির্বিচারে ছাত্রদের লাঠিচার্জ করে। স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্রদের আন্দোলনের সূত্রপাত।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৪ই ফেব্রুয়ারী ১৯৮৩ “মজিদ শিক্ষানীতি” প্রত্যাহার, বন্দি মুক্তি, গণমুখী ও অসাম্প্রদায়িক শিক্ষানীতির দাবিতে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ডাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন থেকে সচিবালয় অভিমুখে ছাত্রদের মিছিল বের হয়। মিছিলের পূর্বে কলাভবনের সামনে ছাত্র সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা করেন।

কার্জন হল সংলগ্ন এলাকায় কাঁটাতারের সামনে এসে শিক্ষার্থীরা বসে পড়ে। জলকামান নিযে প্রস্তুত পুলিশ। হঠাৎ করেই গুলিতে প্রকম্পিত চারিদিক, স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদের পুলিশ বাহিনির অতর্কিত হামলায় একে এক লুটিয়ে পরেন গুলিবিদ্ধ জাফর, জয়নাল মোজাম্মেল ও আইয়ুব। সমবেত জনতার উপর পুলিশ ট্রাক তুলে দেয়। মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে শিক্ষার্থীদের উপর গরম পানি ছিঁটানো হয়। শিশু একাডেমীর অনুষ্ঠানে যোগদান দিতে গিয়ে নিহত হয় শিশু দিপালী সাহা , তাঁর লাশ গুম করে ফেলে পুলিশ। জয়নালের গুলিবিদ্ধ দেহকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। কলাভবনেও গুলি টিয়ার সেলের আঘাতে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর নৃশংস হামলা। গ্রেফতার হন হাজার হাজার ছাত্র। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা ও কারফিউ জারি করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিহত ও আহতদের নিয়ে আসতে অ্যাম্বুলেন্স পাঠায়, কিন্তু ঘটনাস্থলে ঢুকতে দেয়নি পুলিশ। সে দিন জয়নাল ছাড়া জাফর, মোজাম্মেল, আইয়ুব ও দীপালি সাহাসহ অন্তত ১০ জন নিহত হন। নিখোঁজ হন আরো অনেকে। সরকারি হিসাবে গ্রেফতার করা হয় ১ হাজার ৩৩১ জন ছাত্রকে। বাস্তবে এই সংখ্যা আরো বেশি ছিল। পরে এদের মধ্যে অনেকেরই আর খোঁজ মেলেনি।

১৫ই ফেব্রুয়ারী সারাদেশে হরতাল পালিত হয়। ওইদিন পুলিশের গুলতে জবি ছাত্র আইয়ুব ও কাঞ্চন নিহত হন। ২৪ মার্চ, সামরিক শাসন জারি করে ক্ষমতা দখল করেন এরশাদ।

এদিকে ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম সহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এই আন্দোলন। ঢাকা মেডিক্যাল ও অন্যান্য কলেজের শিক্ষার্থীদের মিছিলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে ও গুলি চালায়। এতে নিহত হন কাঞ্চন নামে একজন ছাত্র। ভয়ঙ্কর এই ঘটনার আগে বাংলাদেশে ভ্যালেন্টাইন্স ডে বা ভালোবাসা দিবস কখনো পালন হয়নি।

এই দিনটিকে ভুলিয়ে দিতে পরের বছর পাশ্চাত্যের ভ্যালেন্টাইন ডে এদেশে আমদানি করা হলো। পরের প্রজন্মকে জানতেই দেওয়া হলো না নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।

এ ঘটনার পরের বছর থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারী স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে পালিত হয় স্বৈারাচার প্রতিরোধ দিবস। যা এখন ভ্যালেন্টাইন ডে বা ভালোবাসা দিবসে চাপা পড়েছে । সেই ইতিহাস আমরা ভুলতে বসেছি। জয়নাল, জাফর, দিপালীর জন্য কারো মন আজ কাধেঁনা। গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য যারা প্রান বিসর্জন দিলেন তারা হারিয়ে গেছে ভালোবাসা দিবসের কাছে।

লেখক: আলী আবেদীন বাবুল, ঢাকা।

চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং পাশাপাশি সকল চাকরির প্রস্তুতি প্রকাশ করা হয়। এছাড়া দিনের ব্রেকিং নিউজ সবার আগে পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন:

শালিখা নিউজ

About admin

Check Also

Mujib Borsho 2020

মুজিববর্ষ উপলক্ষে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন বামুন্দী শাখার উদ্যোগে “পরিচ্ছন্ন গ্রাম পরিচ্ছন্ন শহর” কার্যক্রম পরিচালিত

আর মাত্র ২ দিন বাকি মুজিববর্ষ পর্দাপণে। এরই অংশ হিসেবে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন বামুন্দী শাখার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *