Home / ধর্ম / এবার রমজানে মাসেও যেসব ইবাদতেও থাকবে সীমাবদ্ধতা : পড়ুন বিস্তারিত

এবার রমজানে মাসেও যেসব ইবাদতেও থাকবে সীমাবদ্ধতা : পড়ুন বিস্তারিত

রহমত বরকত মাগফেরাত ও নাজাতের মাস রমজান। এ মাসটি একেবারেই সন্নিকটে। আগামী ২৪ কিংবা ২৫ এপ্রিল শুরু হতে পারে রোজা। মহামারি করোনার কারণে রহমতের মাস রমজানের বেশ কিছু ইবাদতে ব্যাপক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা বেশি।The month of Ramadan has restricted for Ibhadat

বৈশ্বিক এ মহামারি করোনায় লকডাউনে অবস্থান করছে প্রায় পুরো বিশ্ব। এরই মাঝে উপস্থিত পবিত্র রমজান মাস। এ মহামারি থেকে নিরাময় লাভ করতে এখনো কোনো প্রতিষেধক তৈরি হয়নি। এর নেই কোনো কার্যকরী চিকিৎসা। এ থেকে মুক্ত থাকতে প্রয়োজন ঘরে অবস্থান করা। সুতরাং মহামারি করোনায় এ মাসটি উদযাপনে ৫টি বিষয়ে (ইবাদতে) ব্যাপক সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। আর তাহলো-

>> জামাআতে নামাজ ও মসজিদ লকডাউন <<
করোনার কারণে সারা দুনিয়াব্যাপি লকডাউন, কারফিউ বিরাজ করছে। মসজিদে নামাজ ও জামাআত বন্ধ রয়েছে। আর রমজান আসলে যারা অন্যান্য সময় তেমন নামাজ পড়ে না বা মসজিদে যায় না, তারাও মসজিদে ব্যাপকভাবে উপস্থিত হয়।
তবে করোনার কারণে এবার বেশির ভাগ দেশেই বিরাজ করছে লকডাউন। তাই কেউ চাইলেও মসজিদে নামাজের জামাআতে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। তাতে সবাইকে ব্যক্তি উদ্যোগে নিরাপদ পরিবেশে স্বল্প আকারে ঘরেই নামাজ আদায় করতে হবে।

>> তারাবিহ নামাজ <<
রমজানের তারাবিহ হলো সন্ধ্যাকলীন বিশেষ ইবাদত তথা নামাজ। বিশ্বব্যাপী দীর্ঘ সময়ে পবিত্র কুরআন খতমের মাধ্যমে এ নামাজ আদায় করা হয়। তারাবিহ নামাজের সময় মসজিদে ব্যাপক জনসমাগম হয়। অথচ করোনার কারণে লকডাউন পরিস্থিতি অতিবাহিত করছে মানুষ।

তাই করোনা পরিস্তিতি অপরিবর্তিত থাকলে কোনো দেশই যথাযথ মর্যাদায় তারাবিহ আদায় করতে পারবে না। তারাবিহ নামাজ তার ঐতিহ্য ও গুরুত্ব হারাবে। ফলে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে সংক্ষিপ্ত সময়ে আদায় করতে হবে তারাবিহ। বাড়িতে কিংবা ঘরে একাকি স্বল্প পরিসরে আদায় করতে হবে এ নামাজ। এ জন্য এখন থেকেই মুমিন মুসলমানকে এ প্রস্তুতি নিতে হবে।

>> সামাজিক আয়োজনের যৌথ ইবাদত <<
রমজান আসলেই ব্যাপক জনসমাগমের মাধ্যমে অনেক সামাজিক ও যৌথ ধর্মীয় আলোচনা কিংবা দোয়া অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়ে থাকে। অনেকেই রমজনা শীর্ষক আলোচনা ও ইফতার মাহফিল আয়োজন করে থাকে। আবার অনেকেই বড় আকারে সাহরি নাইট অনুষ্ঠান আয়োজন করে থাকে। এবার এ জাতীয় সব অনুষ্ঠান থেকে বিরত থাকতে হবে।

>> ঈদের কেনা-কাটা <<
রমজানের শুরু থেকেই ঈদের প্রস্তুতিতে চলে কেনা-কাটার ধুম। করোনার কারণে এমনিতে বড় বড় মার্কেটগুলো ইতিমধ্যে বন্ধ রয়েছে। জনস্বার্থে কোনোভাবেই পরিস্তিতি অনুকূলে না আসলে সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও খুলবে না। যদিও স্বল্প পরিসরে এসব মার্কেট খোলা থাকে তাতেও বিচরণ কিংবা যাওয়া আসায় ব্যাপক সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে।

>> ইতেকাফে সীমাবদ্ধতা <<
রমজান মাসের অন্যতম ইবাদতের নাম ইতেকাফ। রমজানের শেষ দশকে মুমিন মুসলমান মসজিদে ব্যাপকভাবে ইতেকাফে অংশগ্রহণ করে। বিশ্বের অনেক দেশেই মসজিদে ব্যাপকভাবে ইবাদতে রয়েছে রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা। সে ক্ষেত্রে মসজিদে কোনো পুরুষই ইতেকাফ করতে পারবে না।

পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে না আসলে যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে না এবারের রমজানের ইতেকাফ। ফলে ব্যক্তি উদ্যোগে ঘরে কিংবা নির্জন পরিবেশে যথাযথ দূরুত্ব বজায় রেখে বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে ইতেকাফ করতে হবে।

আর নারীরা এমনিতেই ঘরে ইতেকাফ করে থাকেন। সুতরাং তারা ঘরে একাকি সতর্কতা ও সচেতনতার সঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে ইতেকাফ করতে পারবে।

তাছাড়া মসজিদে ইতেকাফ অসম্ভব হবে এই কারণে যে, সীমাবদ্ধতা থাকলেও মসজিদে ব্যাপক জনসমাগম হয়ে থাকে। তাই মসজিদে ইতেকাফ করা হবে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্যই ব্যাপক ঝূঁকিপূর্ণ।

>> ২৭ রমজান : লাইলাতুল কদর <<
২৬ রমজান দিবাগত রাতে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক আগ্রহ উদ্দীপনার মাধ্যমে মানুষ ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করে। এ রাতের ইবাদত-বন্দেগির মর্যাদা ও ফজিলত সম্পর্কে কুরআন সুন্নায় অনেক দিক নির্দেশনা রয়েছে। করোনাভাইরাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এ রাতের সব আয়োজনই থাকবে বন্ধ। যৌথভাবে এ রাতের কোনো ইবাদত-বন্দেগিই অনুষ্ঠিত হবে না। ফরে নিজ নিজ উদ্যোগে যথাযথ দূরত্ব ও নিরাপত্তার মাধ্যমে এ মর্যাদাপূর্ণ রাতের ইবাদত সম্পন্ন করতে হবে।

সর্বোপরি রমজান শেষে ঈদ উদযাপনেও থাকবে সীমাবদ্ধতা। ব্যাপক ও বড় আয়োজনে ঈদে নামাজেও থাকবে কড়াকড়ি। সে ক্ষেত্রে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি তাওবা ইসতেগফার করে মহামারি করোনা থেকে মুক্তি লাভ রোনাজারি করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্যই আবশ্যক।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত রমজানের ইবাদত করার সুযোগ লাভে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফার করা। এ শাবান মাসে রমজনের রহমত বরকত মাগফেরাত ও নাজাত লাভের জন্য দোয়া করা। বিশ্বনিবর শেখানো এ দোয়া বেশি বেশি পড়া-

اَللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِىْ شَعْبَانَ وَ بَلِّغْنَا رَمَضَانَ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি শাবানা ওয়া বাল্লিগনা রামাদান।’

অর্থ : হে আল্লাহ! শাবান মাসে আমাদের বরকত দান করুন আর আমাদের রমজানে পৌঁছে দিন।’
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রমজানের আগেই প্রাণঘাতী মহামারি করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি দান করুন। রমজানের রহমত বরকত মাগফেরাতের মাধ্যমে নিজেদের দুনিয়া ও পরকালের নাজাত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

About admin

Check Also

২২২ বছর পর প্রথমবারের মতো বাতিল হতে পারে হজ

২২২ বছর পর প্রথমবারের মতো বাতিল হতে পারে হজ। মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের কারণে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *