Breaking News
Home / চাকরির খবর / সদ্য উত্তীর্ণ প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়োগে নতুন মোড়

সদ্য উত্তীর্ণ প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়োগে নতুন মোড়

সদ্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ১৮ হাজার শিক্ষককে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করতে বলা হয়েছিলো প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে। এরই মধ্যে হঠাৎ শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত নীতিমালা অনুসারে নিয়োগ না দেওয়ার প্রশ্নে দায়েরকৃত রিটের ওপর রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। [শালিখা নিউজ]Primary Teacher Result 2020

এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গত মঙ্গলবার এই আদেশ দেন।

রিটে বলা হয়, ঐ নিয়োগ বিধিমালার ৭ ধারায় বলা হয়েছে, এই বিধিমালার অধীন সরাসরি নিয়োগযোগ্য পদের ৬০ শতাংশ মহিলা প্রার্থী কর্তৃক পূরণ করতে হবে। ২০ শতাংশ পোষ্য কোটা এবং ২০ শতাংশ পুরুষ প্রার্থী দ্বারা পূরণ করতে হবে। কিন্তু উত্তীর্ণ প্রার্থীদের সংখ্যা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৬০ শতাংশের স্থলে নিয়োগের জন্য ৪৭ শতাংশ নারী চূড়ান্ত হন। অন্যদিকে ৫৩ শতাংশ পুরুষ প্রার্থী। রিটকারী আইনজীবী বলছেন, এটা পুরোপুরি কোটার লঙ্ঘন।

রিটকারী আইনজীবী এ বিষয়ে বলেন, রুল বিচারাধীন থাকাবস্থায় যদি নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয় তাহলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

হাইকোর্টের এ সিদ্ধান্তের ফলে কপালে ভাঁজ পড়ে চাকরির স্বপ্ন দেখা নব্য শিক্ষকদের মধ্যে। তবে তাদের আশার বাণী শুনিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে ৫৫ জেলায় নারী কোটা পূরণ হয়নি

শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত নীতিমালা অনুসারে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর তাদের ব্যাখ্যা জানিয়েছে কীভাবে তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রয়েছে।

ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৩ অনুযায়ী কোন একটি উপজেলার মোট পদের ৬০ শতাংশ মহিলা, ২০ শতাংশ পোষ্য এবং ২০ শতাংশ পুরুষ কোটা নির্ধারিত থাকে।

তদানীন্তন সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের মেমো নং-সম (বিধি-১)-এস-৮/৯৫(অংশ-১)-৫৬ সূত্রে জানা যায়, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রতিটি কোটা আবার এতিমখানা নিবাসী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ৩০ শতাংশ, উপজাতি/ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ৫ শতাংশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্য ১০ শতাংশ এ ৪টি বিশেষ শ্রেণির কোটা ও সাধারণ মেধায় বিভক্ত।

অবশিষ্ট ৪৫ শতাংশ পদ ক্ষেত্রমত মহিলা, পোষ্য ও পুরুষ প্রার্থীদের মধ্যে সাধারণ মেধাক্রমে পূরণ করা হয় যাকে সচরাচর মেধা কোটা বলা হয়।

মহিলা, পোষ্য ও পুরুষ তিনটি কোটার অধীনে সরকার নির্ধারিত যেকোনো ‘বিশেষ শ্রেণির কোটায়’ প্রার্থী না থাকলে তা ঐ উপজেলার একটি কমন পোলে রাখা হয়। প্রতিটি বিশেষ শ্রেণির কোটার জন্য এ ধরনের অপূরণকৃত পদসমূহ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত বছরের ৫ এপ্রিলের (০৫.০০.০০০০.১৭০.১১.০৩৫.১৭-৯৬ স্মারকের) সিদ্ধান্ত ও বিবেচ্য শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালার বিধি-৭। (১)(খ) অনুযায়ী পরবর্তীতে মেধাক্রম অনুযায়ী উপজেলা/থানার উত্তীর্ণ সাধারণ প্রার্থীদের মধ্য হতে পূরণ করা হয়।

এবারের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, বিভিন্ন বিশেষ শ্রেণির কোটায় নির্বাচনযোগ্য উপযুক্ত প্রার্থী না থাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ অপূরণকৃত ছিল। সেগুলো যখন মেধার ভিত্তিতে সাধারণ প্রার্থীদের দ্বারা পূরণ করা হয়েছে, সেখানে পুরুষ প্রার্থীদের মধ্য হতে অধিক সংখ্যক প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছে। এই কারণে সর্বমোট পুরুষ প্রার্থী সর্বমোট মহিলা প্রার্থী হতে বেশী নির্বাচিত হয়েছে।

লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের সঙ্গে উদাহরণস্বরূপ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর একটি ট্যালি সিটও যুক্ত করেছে। যদিও হাইকোর্টের রুলের বিষয়ে তারা কী ব্যাখ্যা দিবে বা কখন দিবে সে বিষয়ে জানা যায়নি।

উল্লেখ্য, আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি নতুন শিক্ষকদের পদায়নের আদেশ জারি করার কথা ছিলো। এখন অপেক্ষা করতে হবে হাইকোর্টের পরবর্তী আদেশের উপর। যদিও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এ ব্যাখ্যার মাধ্যমে আশ্বস্ত করা হয়েছে নতুন উত্তীর্ণ শিক্ষকদের। হাইকোর্ট ১০ দিনের মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদেরকে এই রুলের জবাব দিতে বলেছিলেন।

গত বছরের ৩০ জুলাই সহকারী শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সরকার। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সারাদেশ থেকে ২৪ লাখ প্রার্থী চাকরির জন্য আবেদন করেন। চার ধাপে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেপ্টেম্বর মাসে ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ৫৫ হাজার ২৯৫ জন পাশ করেন।Primary Teacher Result 2020

গত ৬ অক্টোবর থেকে মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়। এ পরীক্ষায় ৬১ জেলায় ১৮ হাজার ১৪৭ জন নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন। এর মধ্যে নারী ৮ হাজার ৫৭০ এবং পুরুষ ৯ হাজার ৫৭৭ জন। ভোলা জেলা থেকে নির্বাচিত হন ৩৪৪ জন। তাদের মধ্যে ১১৭ জন মহিলা।

চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং পাশাপাশি সকল চাকরির প্রস্তুতি প্রকাশ করা হয়। এছাড়া দিনের ব্রেকিং নিউজ সবার আগে পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন:

শালিখা নিউজ

সরকারি এবং বেসরকারি চাকুরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পেতে

www.shalikhanews.com

About admin

Check Also

Primary Teacher Job Circular 2020

প্রাথমিকে ২৯ হাজার শিক্ষক পদ শূন্য

বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৮ হাজার ৮৩২টি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *